বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর নিজের। ভারত সরকারের পরামর্শে নয়, জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তিনি ফিরবেন।
দ্য ওয়াল পত্রিকার এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। গত ১৭ মে আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সভায় তিনি প্রথম দ্রুত প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমার জন্য জেলখানা, ফাঁসির মঞ্চ রেডি করুন। আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিন। আমাকে নিয়ে যেতে বিমান পাঠান।”
সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“ভারত একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারা তাদের নিজস্ব নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের। তবে আমি বলতে পারি আমি কখন, কীভাবে দেশে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ এবং তাঁদের ভালোবাসা।”
‘ক্যাঙ্গারু ট্রায়াল, প্রতিশোধমূলক বিচার’শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়সহ চলমান মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক প্রহসন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত হয়েছিল। ইউনূসের অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনিভাবে চারবার অধ্যাদেশ জারি করে এই আইনে পরিবর্তন এনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার করেছে। এটি কোনো বিচার নয়, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিশোধ।”
তিনি আরও বলেন, এই ‘ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালে’ ন্যায়বিচারের কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি এবং তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি।
শেখ হাসিনা তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আমার বাবাকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রেখে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি। আমি তাঁরই কন্যা। আমার রক্তেও সেই শিক্ষা আছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা হয়েছে। ৫ আগস্টের ঘটনায়ও তিনি ছিলেন মূল টার্গেট। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ তাঁকে বাঁচিয়েছে। “মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যায় না,” বলেন তিনি।
দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যসাক্ষাৎকারে হাসিনা ১৯৮১ ও ২০০৭ সালের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি বলেন, “১৯৮১ সালে ফিরেছিলাম দলকে পুনর্গঠন করতে, ২০০৭ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। এবার আমাকে ফিরতে হবে একটি দেশকে পুনর্গঠনের জন্য।”
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলন্ঠিত করছে এবং দেশকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে ফেলেছে। “আমি অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ফিরব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে আবার শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাব,” বলেন তিনি।
১৭ মে ছিল শেখ হাসিনার ৪৫ বছর আগে ভারত থেকে দেশে ফেরার দিন। এই ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উজ্জীবন দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির থেকে সমালোচনা ও জল্পনা চলছে।
শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য সময় ও প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
Admin